সকাল সকাল একটা নিমন্ত্রণ এসে গেছে… প্রিয় বান্ধবীর পার্টিতে বিকেল বেলার মধ্যে সেজে-গুজে পৌঁছে যেতে হবে আপনাকে? অথচ আকাশের মুখ ভার; আর তাই ভাবছেন কী পরবেন? ঠিক কতটা সাজ আপনার দরকার এই মরসুমে? কোন ফ্যাব্রিকেই বা থাকতে পারবেন সবচেয়ে কমফর্টেবল? পোশাকের রঙ-ই বা বেছে নেবেন কীভাবে? এই সব কিছু ঠিক করার আগে বর্ষা কালে সাজগোজের পুরনো ধারণাকে পাল্টে ফেললে কেমন হয়? আসলে বর্ষাদিন মানেই মনখারাপিয়া আবেশ নিয়ে ঘরবন্দী হয়ে থাকার সময় তো এখন শেষ; মেঘ-বৃষ্টির অমোঘ খেলায় থমকে গিয়ে চুপটি করে বসে কাজ বাতিল করার দিন গা-ঢাকা দিয়েছে সেই কবেই! তার বদলে প্রকৃতি যখন বারিধারায় চারপাশ ধুয়ে-মুছে প্রদান করছে এক ঝরঝরে নতুন লুক, ঠিক তখনই আপনিও কিছুটা ট্রেন্ডি সাজে স্বাগত জানান বর্ষাকালকে।ভেলভেট, লাইক্রা মেটিরিয়ালের পোশাক বাদ দিয়ে সকালে হাল্কার মধ্যে সুতি বা মলমলের পোশাক আর সন্ধে নামার সঙ্গে সঙ্গেই শিফন বা নাইলনের শাড়ি অথবা অন্য যে কোনও পোশাক- বাদলবেলার জন্য একেবারে জুতসই; অন্তত এমনটাই মনে করছেন শহরের নামজাদা ফ্যাশন ডিজাইনার অগ্নিমিত্রা পাল। ‘চারদিকের প্রকৃতির মধ্যে বর্ষাকালে একটা গ্রেয়িশ, ডাল, গ্লুমিভাব থাকে বলেই রঙটিও বেছে নিন সন্তর্পণে। ব্রাইট নিয়ন রঙে সাজান নিজেকে’, বললেন ঝলমলে এই ফ্যাশনিস্তা। এবার প্রশ্ন হল, কেমন নিয়ন রঙে উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বাদল বেলা?নিয়নের মধ্যে ফ্লুরোসেন্ট হলুদ-গোলাপি-কমলা-সবুজ; যে কোনওটি বেছে নিতে পারেন আপনি। অবশ্য সাজগোজের সময় মন্ত্রমুগ্ধের মতন বলে দেওয়া রঙ পরার সময়ও একটু বিবেচনা প্রয়োজন, কেমন? কেন না, ব্রাইট বা নিয়ন রঙের পোশাক ও অ্যাক্সেসরিজে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ঢেকে ফেলার বদলে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করতে। এই যেমন ফ্লুরোসেন্ট গোলাপি কুর্তি পরলে লেগিংসটি পরুন ন্যুড বা হাল্কা কোনও রঙের আর পাশাপাশি নেল-পলিশ বা জুতোয় ফ্লুরোসেন্টের এক শেডের ম্যাচিং করুন। এতে মানাবে তো বটেই, একই রঙে হাবুডুবু খাওয়ার মোনোটনিটাও কাটানো যাবে। এছাড়া নেট বা শিফনের আনারকলি চুড়িদার বা শাড়িতেও সেজে ফেলতেন পারেন সান্ধ্য পার্টিতে। আর পশ্চিমি পোশাকে সাজতে চাইলে এই বর্ষায় পরতে পারেন শর্ট লেংথের ম্যাক্সি ড্রেস- জাম্প স্যুট অথবা শর্ট প্যান্ট। এতে লাভ? দেখতে ট্রেন্ডি লাগার পাশাপাশিই বাঁচাতে পারবেন নিজেকে বৃষ্টি দিনের জল কাদা থেকেও।আর অ্যাক্সেসরিজ? এক্ষেত্রে মিক্স অ্যান্ড ম্যাচ করতে পারেন বিভিন্ন প্যাটার্নের হেয়ার ব্যান্ড ও জুতোর সঙ্গে আপনার স্টাইল স্টেটমেন্টটিকে। ‘সোয়েড, চামড়ার জুতো বা হাই পয়েন্টেড স্টিলেটো অ্যাভয়েড করে ব্যবহার করুন রবারের পাম্প শ্যু আর ফ্লিপ ফ্লপ’, জানাচ্ছেন অগ্নিমিত্রা।এ তো গেল মহিলাদের সাজের কথা! তাঁরা ঝলমলে হয়ে উঠলে পুরুষরাই বা পিছিয়ে থাকেন কেন? পুরুষদের ক্ষেত্রে পরামর্শ- ‘পাতলা লিনেন জাতীয় মেটিরিয়ালের পোশাক পরুন’। গ্রাফিক প্রিন্টেড টি-শার্টের ওপরে সামার জ্যাকেট পরতে পারেন ছেলেরা; সঙ্গে হাঁটু অবধি হাফ প্যান্ট ইনফর্মাল আউটিং-এর জন্য পরলে পুরুষরাও হয়ে উঠতে পারেন ভিড়ের মাঝে নজরকাড়া এক স্টাইল আইকন।এত কিছুর পর বাকি থাকে কেবল একটাই কাজ- ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেজে ফেলা! তাতেই যে বাদলবেলা উজ্জ্বল হয়ে উঠবে, সন্দেহ কী!
0 মন্তব্য: