.jpg)

শোবিজের প্রেম নাকি আজ আছে কাল নেই! কিন্তু সবার
ক্ষেত্রে কি এ কথা খাটে? প্রভা দেখিয়ে দিয়েছেন,
প্রথম
প্রণয়কে পরিণয়ে রূপ দেওয়ার সাহস, ধৈর্য দুটোই
তিনি রাখেন। সেই স্কুলজীবন
থেকে শুরু হয়েছিল রাজীবের সঙ্গে তাঁর প্রেমের গল্প। রাজীব তখন কলেজে পড়েন;
প্রভা
স্কুলে, নবম শ্রেণীতে। তখনো প্রভা মর্ত্যের তারকা হয়ে ওঠেননি,
প্রথমবার
এক ঝলক প্রভাকে দেখেই রাজীব অপলক তাকিয়ে ছিলেন। পরে চোখের পলক পড়লেও মন থেকে কিছুতেই সরাতে পারেননি। ব্যস, প্রেমিক
পুরুষ বের করে নেন স্বপ্নের রাজকন্যার ব্যক্তিগত ফোন নম্বর। প্রথমে বিরক্ত, পরে
নিমরাজি, সব শেষে কথা বলতে বলতে প্রভাও মন দিয়ে
দেন রাজীবকে। মুঠোফোনেই চলে
দুজনার ভাব বিনিময়। অবশেষে
মুঠোফোনেই প্রেম। প্রেমের
প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ জানিয়ে
দিলেও প্রভা তখনো রাজীবকে দেখেননি। এক
মাস পর প্রথম দেখার পর্বটিও সেরে নেন দুজনে। রাজীব
ক্রিকেট খেলে পাওয়া ‘মেডেল’, মহামূল্যবান
‘ঘড়ি’ উপহার
দেন প্রভাকে। সেই উপহার সারা
জীবন সযত্নে রাখার শপথ নেন প্রভা। স্কুলছাত্রী
প্রভার জন্য অবশ্য তখন রাজীবের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাত্ করাটা বেশ মুশকিলই ছিল। কলেজে উঠে কোচিং করার ফাঁকে ফাঁকে প্রেমের পর্ব
চলতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে
পড়ার সময় প্রেম তো আর বাধা মানে না। তবে
এটা ঠিক, আট বছর সমান্তরালে প্রেম চলেনি। অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়েছেন দুজনে। এ বছর হঠাৎ করেই রাজীব একদিন প্রভাকে প্রস্তাব করে
বসেন, ‘আমাকে বিয়ে করবে?’
ব্যস,
লাজুক
হেসে রাজীবের রাজকন্যাও সায় জানিয়ে দেন। বিয়েটা
হচ্ছে আগামী বছর। তবে বিয়ের
প্রস্তুতি হিসেবে গত শুক্রবার স্পেকট্রা কনভেনশন সেন্টারে একে অপরের হাতে আংটি
পরিয়ে দেন প্রভা-রাজীব। বাগদানে
শোবিজের খুব বেশি অতিথি ছিলেন না, পরিবার-আত্মীয়স্বজন,
কাছের
বন্ধুবান্ধবই ছিলেন বেশি। বিয়ে নিয়ে
কন্যা এতটাই উচ্ছ্বসিত, নিজের বাগদানের পোশাকটিও প্রভা মুন
কালেকশনের মুনমুনের সঙ্গে তৈরি করেন। কানিজ
আলমাসের কাছে সাজ নিয়ে বর আসার আগেই পৌঁছে যান প্রভা। উপস্থাপক প্রশ্ন করেন,
কেমন
লাগছে? প্রভা স্বভাবসুলভ হাসি ছড়িয়ে জানান,
‘আমি
সব সময় বেশি কথা বলি। আজ তাই আমাকে
কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কম কথা বলি। তাই অল্প কথাতেই বলি—খুব
বেশি ভালো লাগছে।’
অবশ্য
মঞ্চে বসেও প্রভা তথাকথিত ‘কনে’দের
মতো আচরণ করতে পারছিলেন না। ‘মঞ্চের
পেছনে ফুলটা কই?’, ‘আলো কখন নেভানো হবে?’—প্রভার
কথার ফুলঝুরি বরাবরের মতোই ঝরছিল অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।
0 মন্তব্য: